রেনাটা পিএলসি যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন ওষুধ ফ্লুড্রোকোর্টিসন দশমিক ১ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট বিক্রি শুরু করেছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে ক্যাবারগোলিন দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেটের জেনেরিক সংস্করণ পাঠিয়েছিল কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, ফ্লুড্রোকোর্টিসন প্রাথমিক অ্যাডিসন রোগ ও লবণহ্রাসকারী অ্যাড্রেনোজেনিটাল সিন্ড্রোমের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার হয়। যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ইউকে এমএইআরএ) অনুমোদিত রেনাটার কারখানায় ওষুধটি উৎপাদন করা হয়েছে, যা রেনাটা (ইউকে) লিমিটেডের অধীনে দেশটিতে বাজারজাত করা হচ্ছে। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) রেনাটার আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৮২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৬৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তিন প্রান্তিকে রেনাটার শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ২২ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০২ টাকা ৪৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৯২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রেনাটার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯৫ টাকা ৫৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সায়।
রেনাটার সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ৭ অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (আলফা রেটিং)।
১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রেনাটা পিএলসি ১৯৭২ সালে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট ফাইজারের একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের মালিকানা বিক্রি করে চলে যায় এবং কোম্পানির নাম ফাইজার (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বদলে হয় রেনাটা লিমিটেড। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৮৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০।
এর ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৯ দশমিক ৪৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।